Friday, August 28, 2026
Homeকিশোর গল্পআরব্য রজনীর গল্প: সিন্দবাদের দুঃসাহসিক অভিযান

আরব্য রজনীর গল্প: সিন্দবাদের দুঃসাহসিক অভিযান

আরব্য রজনীর গল্প: সিন্দবাদের দুঃসাহসিক অভিযান

সিন্দবাদ নাবিকের নাম কিংবা গল্প শোনেনি এমন পাঠক খুব কমই আছে পৃথিবীতে। তাঁর সমুদ্রভ্রমণের গল্পগুলো ভীষণভাবে পাঠককে টানে। হাজারবার পড়া থাকলেও গল্পের আবেদন কমে না, বারবার পড়তে ইচ্ছে করে। ভীষণ দুঃসাহসী নাবিক সিন্দবাদ। সমুদ্রভ্রমণে বেরিয়ে বারবার বিপদে পড়েন। মরতে মরতে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে আবার তাঁর নিজের শহর বাগদাদে ফিরেও আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে মনস্থির করেন আর কোনো দিন সমুদ্রভ্রমণে বেরোবেন না। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার প্রাণ আনচান করে ওঠে। তারপর আবারও কোনো জাহাজে বেরিয়ে পড়েন অজানার উদ্দেশে।

একবারের ঘটনা। বাণিজ্য করতে বেরোলেন তিনি। জাহাজ ছাড়ল। হাটে-বন্দরে সওদা করে ফেরেন জাহাজের বণিকেরা।

বাণিজ্য প্রায় শেষ হয়ে আসে। কোনো রকম বিপদ হয় না। সিন্দবাদ ভাবেন, ‘যাক, এ যাত্রা কোনো অঘটন ছাড়াই দেশে ফিরতে পারব।’

কিন্তু অঘটন ছাড়া সিন্দবাদের সমুদ্রযাত্রা—এ যেন সোনার পাথরবাটি।

একদিন রাতে হইচই শুনে ঘুম ভেঙে যায়। ধড়মড় করে উঠে বসেন। ওপরে ছুটে গেলেন সিন্দবাদ। কাপ্তানকে জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে?

কাপ্তান জানালেন, পথ হারিয়ে এক অজানা সাগরে চলে এসেছে জাহাজ। তার ওপর হাল ভেঙে গেছে। জাহাজকে সামলানো যাচ্ছে না। খেয়ালখুশিমতো চলছে ওটা।

ভয়ে আল্লাহকে ডাকতে লাগলেন জাহাজের সবাই।

আপন গতিতে ভেসে চলল জাহাজ। সামলানোর চেষ্টা করে করে হাল ছেড়ে দিলেন কাপ্তান।

হঠাৎ কোনো রকম জানান না দিয়েই ঝড় উঠল। সে কী ভীষণ ঝড়। পাহাড়ের সমান একেকটা ঢেউ এসে আছড়ে পড়তে লাগল জাহাজের ওপর। মনে হয় তলিয়ে যায় যেন জাহাজ। তবে ডোবে না, ভেসে ওঠে আবার। সারাটা রাত এ রকমই চলল। কিন্তু ডুবল না জাহাজটা।

ভোরের দিকে ঝড়ও থামল।

সূর্য উঠল। দেখা গেল, স্রোতের টানে একটা দ্বীপের দিকে ছুটে যাচ্ছে জাহাজ। পাথুরে দ্বীপে ধাক্কা খেয়ে চুরমার হয়ে গেল, লোকজন আর মালপত্র সব ছড়িয়ে পড়ল, কিছু পানিতে, কিছু ডাঙায়। কেউ মরলেন, কেউ বাঁচলেন। সিন্দবাদ উড়ে গিয়ে পড়লেন তীরে। বেহুঁশ হয়ে গেলেন।

হুঁশ ফিরলে দেখেন, আরও কয়েকজন নাবিক আর সওদাগর পড়ে আছেন তীরের ওপর। কেউ বসে আছেন, কেউ তখনো বেহুঁশ।

চারদিকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য মালপত্র। অনেকগুলো ভাঙা জাহাজের কঙ্কাল খাবি খাচ্ছে অল্প পানিতে, সব জয়গায় পাথরের ছড়াছড়ি। বোঝা গেল, সিন্দবাদদের জাহাজটার পরিণতিই হয়েছে হতভাগ্য ওই জাহাজগুলোরও।

এভাবে বসে থেকে লাভ নেই, সিন্দবাদ ভাবলেন, খাবার আর পানির ব্যবস্থা করতে হবে। আগে বাঁচতে হবে, তারপর অন্য কথা। বেঁচে থাকলে কোনো একদিন ফিরে যাওয়ার উপায় হয়তো করা যাবে। কিন্তু আগের ভাবনা আগে। সবাইকে ডেকে বললেন সে কথা। তারপর চলল দ্বীপের কোথায় কী আছে দেখার জন্য।

গাছপালা চোখে পড়ল না। হাঁটতে হাঁটতে একটা উঁচু পাহাড়ে চলে এলেন। এতই খাড়া, কোনো মানুষ সেটা ডিঙাতে পারবে না। খালি পাথর আর পাথর। সরু একটা নদী বেরিয়ে এসেছে পাহাড়ের গা থেকে। কিন্তু সে নদীতে পানি নেই, আছে কালো কালির মতো কী যেন। সে যে কী জিনিস, কেউ বলতে পারল না।

নদীর দুই তীরে অসংখ্য ছোট ছোট নুড়ি, টকটকে লাল। হাতে নিয়ে বোঝা গেল, এই পাথর সাধারণ পাথর নয়, চুনি, রোদে জ্বলছে।

নদীর সেই কালো তরল পদার্থ সাগরে গিয়ে পড়ছে। মোহনায় গিজগিজ করছে ছোট ছোট রঙিন মাছ। হাঁ করে গিলছে সেই কালো তরল। খানিক পরেই বমি করে দিচ্ছে আবার। আশ্চর্য! খাচ্ছে কালো কালি, বমি করছে রঙিন ঘন আঠার মতো কী যেন। ওগুলো সাগরের পানিতে পড়তে না পড়তে জমে শক্ত হয়ে যাচ্ছে, তৈরি হচ্ছে সাগরের আগাছা। অল্প পানিতে দেখল, লাল, নীল, সবুজ গাছের বাগান হয়ে আছে।

অনেক ঘোরাঘুরি করলেন তাঁরা। কোনো খাবার পেলেন না। পানিও নেই। নির্জন ওই রত্নদ্বীপ মানুষের বাসের অযোগ্য। কোনো দিন জাহাজ আসবে বলেও মনে হয় না। আর এলেও তীরে আছড়ে পড়ে ভাঙবে। বাঁচার কোনো আশা নেই। কেউ কেউ কপাল চাপড়ে বিলাপ করে কাঁদতে শুরু করলেন।

সিন্দবাদেরও প্রায় কেঁদে ফেলার অবস্থা। বারবার গালমন্দ করতে লাগলেন নিজেকে। নিজের দোষেই আজ এই শুকিয়ে মরার দশা। নইলে কিসের অভাব ছিল তাঁর? বাগদাদে ধনসম্পদ যা ফেলে এসেছেন, সাত পুরুষে বসে খেলেও ফুরাবে না।

দিন গিয়ে রাত এল, রাত গিয়ে দিন। তারপর আবার রাত। খাবার আর পানির অভাবে এক-দুজন করে মরতে লাগলেন সঙ্গীরা।

অবশেষে কেউ বেঁচে রইলেন না আর, একমাত্র সিন্দবাদ ছাড়া। তার প্রাণটা বোধ হয় খুব শক্ত, তাই ধুঁকতে ধুঁকতে তখনো বেঁচে রইলেন।

নদীর তীরে শুয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ করেই মনে হলো, ‘তাই তো, এই যে আজব নদী, এর উৎপত্তি কোথায় তা-ও তো দেখা হলো না। জীবনে অনেক কিছুই তো দেখলেন, মরার আগে এই কৌতূহল আর বাকি রাখি কেন, দেখেই যাই।’

উঠে দাঁড়ালেন। গায়ে শক্তি নেই। তবু টলতে টলতে চললেন নদীর উজানের দিকে।

পাহাড়ের একটা সুড়ঙ্গ থেকে বেরোচ্ছে নদীটা। কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। ভালো করে দেখে সিন্দবাদের মনে হলো, মূল নদীটা উল্টোদিকে নয়, অন্য কোনো দিক থেকে এসে পড়ছে সুড়ঙ্গে, তারপর দুই ভাগ হয়ে এক ভাগ পাহাড়ের বাইরে বেরিয়ে এসেছে, আরেকটা শাখা চলে গেছে পাহাড়ের ভেতর দিয়ে। এ ধরনের পাতাল নদীর কথা অনেক শুনেছেন তিনি, এটাও তেমনি কোনো নদী হয়তো। তফাতটা শুধু পানির জায়গায়, এখানে রয়েছে অদ্ভুত কালো কালি।

কৌতূহল বাড়ল। পাহাড়ের নিচে দিয়ে কোথায় গেছে নদীটা? সত্যি কোনো দ্বীপে রয়েছেন তিনি? নাকি মূল ভূখণ্ডের এমন কোনো জায়গায়, যেটার চারপাশে পাহাড়, এমনভাবে ঘিরে রেখেছে এপাশ থেকে মনে হয় দ্বীপ।

কোথা থেকে যে গায়ে শক্তি এল, জানেন না। ছুটে গেলেন সাগরের পাড়ে। কাঠের অভাব নেই। শক্ত দেখে কিছু কাঠ এনে দড়ি দিয়ে বেঁধে একটা ভেলা বানালেন। টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেলেন সুড়ঙ্গমুখের কাছে। তারপর ফিরে গেলেন আবার সাগরপাড়ে।

অনেক জাহাজ ভেঙেছে, অনেক মূল্যবান জিনিস পড়ে আছে। বেছে বেছে বড় দেখে কিছু মণি-মুক্তা নিয়ে পোঁটলা বাঁধলেন। কালো নদীর ধার থেকে কুড়িয়ে নিলেন বড় বড় চুনি। ওগুলো এনে তুললেন ভেলায়, পোঁটলাটা দড়ি দিয়ে ভেলার সঙ্গে বেঁধে রাখলেন, ঝাঁকুনি লাগলে যাতে পড়ে না যায়।

আল্লাহর নাম নিয়ে কালো কালিতে ভেলা ভাসিয়ে ঠেলে নিয়ে ঢুকে পড়লেন সুড়ঙ্গে। স্রোতের উজানে ঠেলে ঠেলে এগোলেন।

অনেকক্ষণ পর এক জায়গায় এসে টের পেলেন পানির ঘূর্ণি, গর্জন করে বেরিয়ে আসছে অন্য কোনো সুড়ঙ্গ থেকে। অন্ধকারে দেখতে পেলেন না, কিন্তু বোঝা গেল ঠিকই, এখানেই দুই ভাগ হয়েছে নদীটি। ভেলা আরেকটু ঠেলে নিয়ে এগোতেই বিপরীতমুখী স্রোতের টান স্পষ্ট অনুভব করলেন।

ভেলায় চড়ার সময় হয়েছে। যাবেন কি না দ্বিধা করতে লাগলেন। না গিয়েও উপায় নেই। ফিরে গেলে না খেয়ে মরতে হবে। আর সামনে এগোলে হয়তো ভাগ্য সহায়ও হতে পারে। কোনো নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে যাবেন, যেখানে খাবার আর পানি মিলবে।

আল্লাহর নাম নিয়ে উঠে বসলেন ভেলায়। দড়ি দিয়ে ভেলার সঙ্গে শরীরটা পেঁচিয়ে বেঁধে ফেললেন।

ভেসে চলল ভেলা। বুঝতে পারছেন স্রোতের টান বাড়ছে। বাড়তে বাড়তে একসময় শাঁ শাঁ করে ছুটতে লাগলেন।

কোথায় যাচ্ছেন কিছু বুঝতে পারছেন না। গাঢ় অন্ধকার। কবরের ভেতরে বোধ হয় এমনই অন্ধকার। কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না, আলোর চিহ্নও নেই।

ছুটে চলছে ভেলা। পড়ে থেকে থেকে শক্ত কাঠের ঝাঁকুনিতে পিঠব্যথা হয়ে গেল। মাথা তুলে উঠে বসতে গেলেন। দড়াম করে বাড়ি লাগল মাথায়, সুড়ঙ্গের ছাত থেকে বেরিয়ে থাকা কোনো পাথরেই হবে হয়তো। বেহুঁশ হয়ে গেলেন।

হুঁশ ফিরলে দেখলেন, এক সবুজ দেশের ভেতর দিয়ে চলেছে ভেলা। নদীর দুই তীরে মাঠ, ফসলের খেত। কয়েকজন লোক কৌতূহলী হয়ে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে।

ভেলা কিনারে ভেড়ালেন সিন্দবাদ। টলতে টলতে পোঁটলাটা নিয়ে তীরে নামলেন। কয়েক পা এগিয়েই মাথা ঘুরে গেল, ধপাস করে বসে পড়লেন মাটিতে।

সিন্দবাদের অবস্থা দেখে এগিয়ে এল লোকগুলো। একজন জিজ্ঞেস করল কিছু। কিন্তু ভাষাটা একেবারেই অপরিচিত, কিছুই বোঝা গেল না।

সিন্দবাদ তাঁর ভাষায় জিজ্ঞেস করল, ‘কে তোমরা, এই দেশের নাম কী?’ ওরাও কিছু না বুঝে হাঁ করে তাকিয়ে রইল সিন্দবাদের দিকে।

কথা বলে লাভ হবে না বুঝে শেষে মুখের কাছে হাত নিয়ে গিয়ে ইশারায় বোঝাতে চাইল, অনেক খিদে পেয়েছে। পানিও দরকার।

ইশারা বুঝল ওরা। মাথা ঝাঁকিয়ে একজন আরেকজনকে কী যেন বলল। ছুটে চলে গেল লোকটা। খানিক পরেই অনেক খাবার আর পানি নিয়ে হাজির হলো।

গোগ্রাসে খেতে শুরু করলেন সিন্দবাদ।

তাঁকে শহরে নিয়ে গেল লোকগুলো। ওখানে একজন লোকের সঙ্গে দেখা হলো, যে আরবি জানে। লোকগুলোই তাঁকে ডেকে এনেছে দোভাষীর কাজ চালানোর জন্য।

দুঃখের কাহিনি খুলে বললেন তাদের সিন্দবাদ।

শুনে তারা যেমন কষ্ট পেল, তেমনি সিন্দবাদের বুদ্ধি আর সাহসেরও প্রশংসা করল। একান-ওকান হতে হতে সিন্দবাদের খবর গিয়ে তাদের সম্রাটের কানে পৌঁছাল। সম্রাট সিন্দবাদকে ডেকে পাঠালেন।

সিন্দবাদের কাহিনি তাজ্জব হয়ে শুনলেন সম্রাট।

সিন্দবাদের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বললেন, ‘তুমি একজন সত্যিকারের সাহসী লোক, সিন্দবাদ।’

সম্রাটের সঙ্গে সিন্দবাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে লাগল। অবসর সময় নানা রকম আলোচনা করেন। সিন্দবাদের সমুদ্রযাত্রার রোমহর্ষক বিচিত্র সব কাহিনি শুনে মুগ্ধ হন সম্রাট। একদিন তিনি বাগদাদের সুলতান খলিফা হারুন অর-রশিদের কথা শুনতে চাইলেন।

সিন্দবাদ জানালেন, ‘আমাদের সুলতানের মতো ধর্মপ্রাণ মানুষ হয় না। তাঁর রাজ্যে অন্যায়-অবিচার বলতে কিছু নেই। প্রজারা তাঁকে জীবন দিয়ে ভালোবাসে। সুলতানেরও একমাত্র ভাবনা শুধু প্রজাদের নিয়ে।’ সুলতানের অনেক কথা সম্রাটকে জানালেন সিন্দবাদ।

শুনে মুগ্ধ হলেন সম্রাট। বললেন, ‘সুলতানের সঙ্গে তো কোনো দিন দেখা হবে না, কিন্তু ভাবের বিনিময় হতে পারে। সিন্দবাদ, এক কাজ করো। জাহাজ, লোকজন সব দিচ্ছি, তুমি দেশে ফিরে যাও। খলিফার কাছে আমার সেলাম আর ভালোবাসা নিয়ে যাও।’

হাতে চাঁদ পেলেন যেন সিন্দবাদ। দেশে যাওয়ার এই সুযোগ কি আর ছাড়েন? সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন।

তবে তৈরি হতে সময় লাগল। বড় নতুন জাহাজ বানানো হলো। নানা রকম দামি পাথর, অলংকার আর মূল্যবান উপহার উপঢৌকনে বোঝাই করা হলো সে জাহাজ। সাপের চামড়ায় তৈরি প্রকাণ্ড এক গালিচা দিলেন তিনি খলিফার জন্য, তাতে সোনার চমৎকার কাজ করা। দিলেন দুই শ কর্পূরের ঢেলা। আট হাত লম্বা একটা হাতির দাঁত। আরও কত রকম জিনিস।

এক সুদিন দেখে জাহাজে উঠলেন সিন্দবাদ। জাহাজঘাটায় লোকের ভিড়। দেখে মনে হলো, দেশের সবখান থেকে লোক এসে হাজির হয়েছে সিন্দবাদকে বিদায় জানাতে। সম্রাট নিজেও ঘরে থাকতে পারেননি। চলে এসেছেন। বাগদাদের খলিফাকে লেখা একটা চিঠি দিলেন সিন্দবাদের হাতে।

চিঠিটায় লেখা: মহামান্য খলিফা, আমার নগণ্য উপহার গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করুন। আপনার গুণের কথা অনেক শুনেছি। দুনিয়ায় আপনার মতো মানুষ থাকতে পারে, ভাবিইনি। পারলে গিয়ে আপনাকে দেখে ধন্য হতাম, কিন্তু আমি সম্রাট, দেশের দায়িত্বভার ছেড়ে যাওয়া যে কি কঠিন সে তো আপনি ভালোই বোঝেন। তবু মনে করবেন, আমি সশরীরে আপনার সামনে উপস্থিত। আপনাকে বন্ধু হিসেবে পেলে আর কিছু চাই না। সিন্দবাদের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিন।

আমাকে শেষবারের মতো বিদায় জানিয়ে সম্রাট বললেন, ‘সিন্দবাদ, এখানে হয়তো যোগ্য সম্মান আর আদর পাওনি, বাগদাদের লোকের মতো আদবতমিজ জানে না আমার দেশের লোকে। ওদের ক্ষমা করে দিয়ো।’

তাড়াতাড়ি সম্রাটের হাতে চুমু খেয়ে সিন্দবাদ বললেন, ‘কী যে বলেন, জাহাঁপনা। আর লজ্জা দেবেন না। আপনার মতো মহানুভব, দয়ালু মানুষ আমি কমই দেখেছি। মেহমানের দিকে এতখানি খেয়াল কজনে রাখতে পারেন? আপনার দেশের মানুষদেরও তুলনা হয় না। এতই ভালো তারা। সবই আমি জানাব খলিফাকে।’

টলমল চোখে সিন্দবাদকে বিদায় দিল সবাই।

Inspire Literature
Inspire Literaturehttps://www.inspireliterature.com/
Read your favourite inspire literature free forever on our blogging platform.
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


Most Popular

Recent Comments