Tuesday, February 27, 2024
Homeকিশোর গল্পআকাশপরী - হুমায়ূন আহমেদ

আকাশপরী – হুমায়ূন আহমেদ

নীলুদের বাসায় মাঝে মাঝে একজন হেডমাস্টার সাহেব বেড়াতে আসেন। তিনি নীলুর বাবার বন্ধু আজীজ সাহেব। হেডমাস্টাররা সাধারণত যে রকম হন, উনি কিন্তু মোটেই সে রকম নন। খুব হাসিখুশি স্বভাব। আর এমন মজার মজার ধাঁধা জিজ্ঞেস করেন নীলুকে, যে নীলু হেসেই বাচে না। একদিন জিজ্ঞেস করলেন, বলো দেখি মা, তিন আর এক যোগ করলে কখন পাঁচ হয়?

নীলু ভেবেই পায় না। তিন আর এক যোগ করলে সব সময় চার হয়। পাঁচ আবার হবে কী করে?

কি পারলে না? ভেবে দেখো, কখন তিন আর এক যোগ করলে পাঁচ হয়। নীলু বলতে পারে না, শুধু মাথা চুলকায়। শেষে আজীজ চাচা হেসে বললেন, যখন অঙ্কে ভুল হয় তখনই তিন আর একে পাঁচ হয়। এই সহজ জিনিসও পারলে না বোকা মেয়ে ছিছি!

আরেক দিন বললেন, বলো দেখি মা কে ফর ফর করে ওড়ে।

কুট কুট করে কামড়ায়?

নীলু বলতে পারে না। আজীজ চাচা হা হা করে হেসে বলেন, পিপীলিকা! পিপীলিকা!!

নীলু অবাক হয়ে বলে,

পিপড়ের বুঝি পাখা থাকে? খুব থাকে। পড়েনি কবিতায়, পিপীলিকার পাখা হয় মরিবার তরে। তখন তারা আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে কেন?

আজীজ চাচা গম্ভীর হয়ে বলেন, আগুন তখন তাদের ডেকে বলে, আমি কী সুন্দর আসো তোমরা আমার কাছে। ভয় কী ভাই। আজীজ চাচাকে নীলুদের বাসার সবাই খুব ভালোবাসেন। সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন নীলুর বাবা। আজীজ সাহেব এসেছেন শুনলেই তিনি চেঁচিয়ে ওঠেন–হেডু এসেছে, হেডু এসেছে, ও নীলু, তোর আজীজ চাচা এসেছে। বাসায় একটি হুলস্থল পড়ে যায়। মা একটা কেটলি চাপিয়ে দেন চুলায়। আজীজ চাচার আবার মিনিটে মিনিটে চা চাই কিনা!

চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আজীজ চাচা পা তুলে আরাম করে বসেন সোফায়। দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে শুরু করেন গল্প। নীলু তো ছোট, কাজেই তাকে ভূতের গল্প শুনতে দেয়া হয় না।

নীলু শুনতে চাইলেই মা বলেন,

উহুঁ উহুঁ, তুমি যাও নীলু। অল্প বয়সে এসব গল্প শুনলে ছেলেমেয়ে ভীতু হয়।

আজীজ চাচা তখন তর্ক করেন, ভীতু হবে কেন ভাবি? আমি যে ছেলেবেলায় এত ভূতের গল্প শুনেছি, আমি কি ভীতু?

মা তবু রাজি হন না। ঘাড় বাকিয়ে বলেন, না না, নীলুর এসব গল্প শুনে কাজ নেই।

নীলুর খুব ইচ্ছে করে ভূতের গল্প শুনতে। কিন্তু ইচ্ছে করলেই কে আর তাকে গল্প শুনতে দেবে? এমন মন খারাপ লাগে তার, একেকবার কেঁদে ফেলতে ইচ্ছে হয়।

গল্প বলা ছাড়াও আজীজ চাচা মাঝে মাঝে অদ্ভুত সব জিনিস নিয়ে আসেন। একবার নিয়ে এলেন হিজিবিজি লেখা কী একটা কাগজ। নীলুর মাকে বললেন, ভাবি, এই তাবিজটি বালিশের নীচে রেখে ঘুমুলে স্বপ্নে দেখবেন আকাশে পূর্ণচন্দ্র। আর সেই পূর্ণচন্দ্রের জ্যোৎস্নায় আকাশপরীর দল নাচছে আর গান গাইছে।

মা শুনে হেসেই বাঁচেন না। আজীজ চাচা রেগে গিয়ে বললেন, আপনার বিশ্বাস না হলে আজ মাথার নীচে রেখে ঘুমান। পরীক্ষা হয়ে যাক।

মা আঁতকে উঠে বললেন, সর্বনাশ, আমি নেই এর মধ্যে।

নীলু তখন থাকতে না পেরে বলল, আমাকে দিন চাচা। আমি পরী দেখব।

আজীজ চাচা নীলুকে দিতে যাচ্ছিলেন কাগজটা। কিন্তু মা তার আগেই ছো মেরে কাগজটা নিয়ে ফেলে দিলেন বাইরে। নীলুকে ধমক দিয়ে বললেন,

যা শুনবে তাই চাইবে, কী যে বাজে স্বভাব হয়েছে নীলুর।

আজীজ চাচা আরেকবার নিয়ে এলেন ছোট্ট একটা ফুলের গাছ। লম্বা লম্বা কালো তার পাতা। বাবাকে বললেন, এই নাও, সেনচুরিয়ান ফ্লাওয়ারের চারা। একশ বছর পর ফুল ফুটবে। অপূর্ব বেগুনি রঙের ফুল! অদ্ভুত সুন্দর।

বাবা হাসতে হাসতে বললেন, তোমার ঐ বেগুনি ফুল দেখবার জন্যে একশ বছর কে বেঁচে থাকবে? উঠোনে দুদিন ধরে অযত্নে পড়ে রইল সেই ফুলের গাছ। তারপর নীলু সেই গাছটি যত্ন করে লাগাল তার বাগানে। নীলু যদি একশ বছরেরও বেশি দিন বাচে, তাহলে সে দেখবে বেগুনি ফুল।

এই জন্যেই আজীজ চাচাকে এত ভালো লাগে নীলুর। তা ছাড়া মাঝে মাঝে তিনি শিকারের গল্পও করেন। সেইসব গল্প নীলুকে শুনতে দেয়া হয়। একটা গল্পের কথা নীলুর খুব মনে পড়ে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে রামু পাহাড়ের কাছে একবার একটা ছাগল চরছিল। ছাগলটা দড়ি দিয়ে বাধা। তার পাশেই প্রকাণ্ড একটা গাছ। জায়গাটা জংলামতো। হঠাৎ দেখা গেল মস্ত একটা সাপ গাছের ডালে লেজ জড়িয়ে দোল খেতে শুরু করেছে। সাপটিকে দেখেই ছাগলটি ছটফট করতে শুরু করল। দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে যাবার তার কী চেষ্টা সাপটি দোল খেতে খেতে একেবারে ছাগলটির খুব কাছে চলে এলো। আর অমনি ছাগলটি চুপ। সাপটি প্রকাণ্ড বড় হা করে তাকিয়ে রইল ছাগলটির দিকে। ছাগলটির নড়বার শক্তি যেন আর নেই। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে লাগল হা করা সাপের দিকে।

গল্প শুনে নীলু ভয়ে বাঁচে না। আজীজ চাচা বললেন, সাপ খুব সহজেই হিপনটাইজ করতে পারে।

আজীজ চাচার কথা শুনে বাবা বললেন, যত আজগুবি গল্প। তোমার। সাপ আবার হিপনটাইজ করবে কী?

আজীজ চাচা খানিকক্ষণ গম্ভীর থেকে বললেন, এই গল্পে তোমার বিশ্বাস হলো না। বেশ, আমার নিজের জীবনের গল্প বলি, শোনো। কিসের গল্প, ভূতের নাকি?

ঠিক ভূতের না হলেও ভূতের।

সঙ্গে সঙ্গে মা বললেন, নীলু মা, তোমার এসব গল্প শুনে কাজ নেই। যাও, ঘুমুতে যাও।

নীলু মুখ কালো করে বলল, আমার শুনতে ইচ্ছে করছে মা।

না, ভয়ের গল্প ছোটদের শুনতে নেই। তুমি ঘুমুতে যাও।

সেই গল্প শুনতে না পেয়ে নীলুর যে কী মন খারাপ হলো বলবার নয়। প্রায় কান্না পেয়ে গেল। সে অবশ্যি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল দরজার পাশে, যদি কিছু শোনা যায়। কিন্তু মাঝে মাঝে মায়ের গলার আওয়াজ ছাড়া কিছু শোনা গেল না। মা বলছেন, বলেন কী, সত্যি নাকি?

ওমা গো!

কী সর্বনাশ! আপনি কী করলেন?

সেদিন থেকে নীলু কতবার যে ভেবেছে, যেন আজীজ চাচা বেড়াতে এসেছেন। ঘরে আর কেউ নেই, শুধু সে একা। আর আজীজ চাচা এসেই শুরু করেছেন গল্প। কী দারুণ ভূতের গল্প।

ওমা, নীলুর কী ভাগ্য! সত্যি সত্যি একদিন এ রকম হলো। সেদিন ছিল সোমবার। সন্ধ্যাবেলা নীলুর বাবা আর মা গেলেন বেড়াতে, কোনো বন্ধুর বাড়িতে নিমন্ত্রণ। ফিরতে তাদের রাত হবে। নীলুর ছোট কাকু মাথাব্যথার জন্যে শুয়ে আছেন তার নিজের ঘরে। আর কী আশ্চর্য, নীলুর স্যারও আসেননি তাকে পড়াতে। নীলুর কিছু ভালো লাগছিল না। ভেবেই পাচ্ছিল না একা একা কী করবে। তখনই এলেন আজীজ চাচা। দরজার ওপাশ থেকে বললেন,

হাউ মাউ খাউ
নীলুর গন্ধ পাই।

নীলু আনন্দে লাফিয়ে উঠল। তার সেকী চিৎকার, আজীজ চাচা এসেছেন, আজীজ চাচা এসেছেন!

কী রে নীলু বেটি, বাবা-মা কোথায়?

বাবা নেই, মা নেই, কেউ নেই। কিন্তু আপনি যেতে পারবেন না।

নীলু ছুটে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ফেলল।

আজীজ চাচা হেসে বললেন, আমাকে বন্দি করে ফেললে যে নীলু মা? এখন। বলো বন্দির প্রতি কী আদেশ?

নীলু আজীজ চাচার হাত ধরে চেঁচাতে লাগল, গল্প বলুন। গল্প।

কিসের গল্প মা?

সব রকম গল্প। ভূতের গল্প, পরীর গল্প, ডাকাতের গল্প, শিকারের গল্প।

কী সর্বনাশ, এত গল্প! নীলু মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, হ্যাঁ, বাবার সঙ্গে যেমন গল্প করেন, সেই সব গল্প।

আজীজ চাচা হাসতে লাগলেন। নীলু বলল, তার আগে আপনার জন্যে চা। বানিয়ে আনি।

ওমা, নীলু বেটি আবার চা বানাতে পারে নাকি?

হ্যাঁ খুব পারি।

নীলু দৌড়ে গেল রান্নাঘরে। তার চা অবিশ্যি বেশি ভালো হলো না। দুধ হয়ে গেল খুব বেশি। মিষ্টি হলো তার চেয়ে বেশি। তবু আজীজ চাচা চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন, চমৎকার! এত ভালো চা আমি সারা জীবনেও খাইনি!

এই বলেই তিনি গম্ভীর হয়ে দাড়িতে হাত বোলাতে লাগলেন। নীলু জানে এখন গল্প শুরু হবে। কারণ, আজীজ চাচা গল্প বলার আগে সব সময় গম্ভীর হয়ে দাড়িতে হাত বোলান।

বাংলাদেশের একজন অতি বড় লেখকের গল্প বলি, শোনো। তার নাম বিভূতিভূষণ।

সত্যি গল্প চাচা?

হ্যাঁ মা, সত্যি। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছিল খুব ঘুরে বেড়ানোর শখ। একদিন ঘুরতে ঘুরতে হাজির হলেন এক পুরনো রাজবাড়িতে। ভাঙা বাড়ি, দরজাজানালা ভেঙে পড়েছে। জনশূন্য পুরী। বাড়ির সামনের বাগানে আগাছা আর কাটা ঝোঁপের জঙ্গল। অবিশ্যি বাড়ির ডানপাশের পুকুরটি ভারি সুন্দর, টলটল করছে পানি শ্বেতপাথরের বাধানো ঘাট। সব মিলিয়ে অপূর্ব। তিনি সেই। বাধানো ঘাটে গিয়ে বসলেন। খুব জ্যোৎস্না হয়েছে–আলো হয়ে গেছে চারদিক। ফুরফুরে হাওয়া দিচ্ছে। ক্ৰমেক্রমে রাত বাড়তে লাগল। তিনি বসেই রইলেন। একসময় তার তন্দ্রার মতো হলো। আর ঠিক তক্ষুনি তার মনে হলো কে একটি মেয়ে যেন খিলখিল করে হেসে উঠেছে। তিনি চমকে চেয়ে দেখেন রাজবাড়ির বাগানে যে মার্বেল পাথরের পরীমূর্তিটি আছে, সেটি নড়তে শুরু করছে। তিনি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলেন। মূর্তিটি সত্যি সত্যি ডানা ঝাঁপটে খিলখিল করে হেসে উঠল। তিনি ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে ডাকলেন, কে, কে ওখানে?

আমনি ডানা ঝাঁপটানো বন্ধ করে পরীটি আবার মার্বেল পাথরের মূর্তি হয়ে গেল। তার আর একা থাকার সাহস হলো না। তিনি চলে এলেন গ্রামে। গ্রামের লোক সবকিছু শুনে বলল, এ তো আমরা সবাই জানি বাবু। প্রতি পূর্ণিমা রাতে ঐ পরীটি প্রাণ পায়। নাচে গান করে। তার সঙ্গে নাচবার জন্যে আকাশ থেকে নেমে আসে আকাশপরীরা। আপনি আর কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলে ওদের দেখতে পেতেন।

গল্প শেষ করে আজীজ চাচা বললেন, ভয় লাগছে নীলু?

হ্যাঁ। অল্প অল্প লাগছে।

তবে থাক আজ।

নীলু বলল, আমার খুব আকাশপরী দেখতে ইচ্ছে করছে। কী করলে আকাশপরী দেখা যায় চাচা?

আজীজ চাচা হাসিমুখে বললেন, খুব সহজ মা। পূর্ণিমা রাতে গলায় একটা ফুলের মালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতে হয় চাঁদের দিকে। আর মনে মনে বলতে হয়–

‘আকাশপর আকাশপরী
কাঁদছে আমার মন।
এসো তুমি আমার ঘরে
রইল নিমন্ত্রণ।’

শুধু এই? আর কিছু না?

না, শুধু এই।

আকাশপরীরা এসে কী করে চাচা?

ফুলের বাগানে হাতধরাধরি করে নাচে আর গান গায়। সেই গান শুনে বাগানের সব গাছে ফুল ফুটতে থাকে।

নীলু অবাক হয়ে বলল, চাচা, ওরা যদি আমার বাগানে আসে তাহলে আমার বাগানেও ফুল ফুটবে?

নিশ্চয়ই ফুটবে মা।

আর চাচা, আপনি যে গাছটি দিয়েছেন, একশ বছর পর ফুল ফুটে সে। গাছেও বেগুনি ফুল ফুটবে?

আজীজ চাচা ইতস্তত করে বললেন, ফোঁটাই তো উচিত।

নীলু আনন্দে হাততালি দিয়ে ফেলল।

এর পর থেকে বাড়ির মানুষ অস্থির। নীলু সবাইকে জ্বালিয়ে মারছে, কবে পূর্ণিমা হবে? কবে পূর্ণিমা হবে? এত দেরি কেন পূর্ণিমার?

মা রেগেমেগে অস্থির। নীলুকে বললেন, কী মাথামুণ্ডু বলেছে তোমার আজীজ চাচা, তাই বিশ্বাস করে বসে আছ। পরী আবার আছে নাকি পৃথিবীতে?

বাবারও একই কথা, ভূত, প্রেত, রাক্ষস, খোক্কস–এইসব মানুষের বানানো জিনিস। বুঝলে নীলু? শুধু বোকারাই এসব বিশ্বাস করে।

নীলু বলল, আজীজ চাচা কি বোকা?

না, সে বোকা নয়, সে একটা পাগল।

নীলু কিন্তু কারো কথাই বিশ্বাস করল না। পূর্ণিমার রাতে সত্যি সত্যি একটি ফুলের মালা গলায় দিয়ে বসল জানালার পাশে আর আপন মনে বলতে লাগল,

‘আকাশপরী আকাশপরী
কাঁদছে আমার মন
এসো তুমি আমার ঘরে
রইল নিমন্ত্রণ।’

নীলুর কাণ্ড দেখে বাসার সবার সেকী হাসাহাসি। মা ঠাট্টা করে বললেন, ডিমের পুডিং আছে ফ্রিজে। পরীরা আসলে খেতে দিস মনে করে।

কিন্তু নীলুর ভাগ্যটাই খারাপ। কিছুক্ষণের মধ্যেই এমন ঘুম পেতে লাগল তার যে বলার নয়। ঘুম ভাঙল ভোরবেলায়। রোদের আলোয় চিকমিক করছে। চারদিক। এত মন খারাপ হলো নীলুর যে বলবার নয়। মা এসে বললেন, কিরে নীলু, কী কথাবার্তা হলো পরীদের সঙ্গে?

নীলু চুপ করে রইল।

নাশতা খাওয়ার সময় বারা বললেন, তারপর নীলু মা, তোমার পরবন্ধুদের সঙ্গে কী আলাপ করলে, তা তো বললে না?

ছোট কাকু বললেন, সম্ভবত নীলুর সঙ্গে তাদের ঝগড়া হয়েছে। দেখছেন না,

নীলুর মন ভালো নেই!

সবাই হেসে উঠল হা হা করে। নীলুর কাঁদতে ইচ্ছে করছিল। সে চুপি চুপি চলে এলো তার বাগানে। আর বাগানে পা দিয়েই সে অবাক। কত যে ফুল ফুটেছে বাগানে। তাহলে কি সত্যি আকাশপরীরা এসেছিল? সে দৌড়ে গেল আজীজ চাচা যে গাছটি দিয়েছিলেন সেখানে কী কাণ্ড! সেই গাছে বেগুনি আর নীল রঙে মেশানো অদ্ভুত একটি ফুল ফুটে রয়েছে। কী অপূর্ব তার গন্ধ! নীলুর নিমন্ত্রণে তাহলে এসেছিল তার আকাশপর বন্ধুরা। আনন্দে নীলুর চোখে জল এসে গেল।

Inspire Literature
Inspire Literaturehttps://www.inspireliterature.com
Read your favourite inspire literature free forever on our blogging platform.
RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments