একজন পাঠানের শিক্ষামূলক গল্প
একজন পাঠান ছিলেন, যার কাছে ছিল একটি ঘোড়া আর একটি ছাগল। দু’জনকেই তিনি নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন।
একদিন হঠাৎ করে ঘোড়াটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে উঠে দাঁড়াতে বা হাঁটাচলা করতেও পারছিল না। এই অবস্থায় পাঠান খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন। তিনি দ্রুত একজন পশু চিকিৎসককে ডেকে আনলেন।
ডাক্তার ভালো করে পরীক্ষা করে বললেন –
“ঘোড়াটির অবস্থা গুরুতর। আমি আগামী চার দিন ধরে ওকে ওষুধ দেব। যদি চতুর্থ দিনের মধ্যে সে উঠে দাঁড়ায়, তাহলে সে বাঁচবে।
আর যদি না পারে, তবে তখন তাকে মে*রে ফেলতে হবে।”
এই কথা শুনে পাঠান ভেঙে পড়লেন। কিন্তু কিছু করার ছিল না। এখন শুধুই অপেক্ষা।
ডাক্তার চলে গেলে ছাগলটি ঘোড়াটির কাছে গিয়ে বলল –
“ভাই, তুমি কালকে ডাক্তার আসার আগেই উঠে দাঁড়াও। না হলে ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে!”
কিন্তু ঘোড়া কোনও কথা কানে নিল না। সে যেন সবকিছু ছেড়ে দিয়েছে।
দ্বিতীয় দিনেও ছাগল এসে বলল –
“আরও এক দিন গেল, কিন্তু তুমি তো উঠলে না। তুমি চেষ্টা করো, প্লিজ।”
ঘোড়া এবারেও চুপ। তৃতীয় দিন ডাক্তার আবার এলেন। দেখলেন, ঘোড়াটি এখনও আগের মতোই শুয়ে আছে।
ডাক্তার বললেন –
“আর মাত্র একদিন সময়। কাল যদি না উঠে দাঁড়ায়, তাহলে শেষ করতে হবে।”
ডাক্তার চলে যাওয়ার পর ছাগল শেষবারের মতো চেষ্টা করল।
সে বলল –
“দেখো ভাই, আমি তোমার ভালো চাচ্ছি। জীবন একটাই, একবার হারালে আর ফিরে পাবি না।
তুমি একটু চেষ্টা করো, শুধু একবার দাঁড়াতে হবে। বাঁচার একটা সুযোগ তো নেওয়া উচিত!”
এবার ঘোড়া ভাবল –
“সত্যি, যদি একবার চেষ্টা করলেই জীবন ফিরে পাওয়া যায়, তবে না চেষ্টা করলেই ভুল।”
পরের দিন সকালে ডাক্তার এলে, হঠাৎ করে ঘোড়াটি উঠে দাঁড়াল এবং দৌড়াতে শুরু করল!
ডাক্তার আনন্দে চিৎকার করে উঠলেন –
“অসাধারণ! ঘোড়া বেঁচে গেল! এখন ওকে আর মা*রতে হবে না।”
পাঠান খুব খুশি হয়ে বললেন –
“ডাক্তারসাহেব, আজ আপনি আমার মনটা ভরে দিলেন। এই আনন্দে আজ ছাগলটাই কে*টে ফেলা হবে!”
শিক্ষা:
এই গল্প থেকে আমরা একটা বড় শিক্ষা পাই –
আজকের যুগে খুব বেশি ‘ভালো মানুষ’ হওয়া বিপজ্জনক। কাউকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনতে হয়।
তাই বুঝে শুনে চলুন, না হলে ছাগলের মতোই অবস্থা হবে!
