এক শীতের রাতের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গল্প
এক শীতের রাতে, রাহুলের গাড়ি এক নির্জন রাস্তায় বিকল হয়ে গেল। ফোন বের করে দেখল—কোনো সিগন্যাল নেই। আশেপাশে কেউ নেই, আর নিকটতম শহর অনেক দূরে। ঠান্ডা বাতাসে প্রতিটি পদক্ষেপ ভারী মনে হচ্ছিল।
অসহায় হয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে একটি বিশাল আলোকিত প্রাসাদের সামনে এসে দাঁড়াল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে দরজায় কড়া নাড়ল।
একজন অভিজাত পোশাক পরা ব্যক্তি দরজা খুললেন, সন্দেহভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, “হ্যাঁ?”
রাহুল কাঁপতে কাঁপতে বলল, “আমার গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে। যদি একটু ফোন করতে দিতেন বা সাহায্য করতেন?”
লোকটি ভ্রু কুঁচকে বলল, “দুঃখিত, আমি কোনো ঝামেলা চাই না। কয়েক মাইল দূরে একটা গ্যাস স্টেশন আছে, ওখানে চেষ্টা করুন।” এরপর দরজা বন্ধ করে দিলেন।
মনের মধ্যে কষ্ট আর হতাশা নিয়ে রাহুল আবার হাঁটা শুরু করল। কিছু দূর যাওয়ার পর সে একটি ছোট জরাজীর্ণ কুটির দেখতে পেল। ভিতরে এক বৃদ্ধ আলো-আঁধারিতে বসে ছিলেন।
রাহুলকে দেখে বৃদ্ধ সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন। “ওহ! তুমি তো বেশ কাঁপছো! এসো, ভেতরে এসো, একটু উষ্ণ হও।”
রাহুল দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে বলল, “আপনাকে বিরক্ত করতে চাই না কাকু।”
বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন, “বিরক্ত কিসের? এসো, আগে একটু গরম চা খাও।”
গরম চায়ের কাপ হাতে দিয়ে বৃদ্ধ বললেন, “চলো, তোমার গাড়িটা দেখি!”
তাদের দুজনেই গাড়ির কাছে পৌঁছাল। বৃদ্ধ দুর্বল হাতে পরিশ্রম করে গাড়িটা ঠিক করে দিলেন। কারন তিনি ছিলেন এক মেকানিক । কিছুক্ষণ পর গাড়ি আবার চলার উপযোগী হলো।
রাহুলের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। “আপনার নিজেরই কিছু নেই, তবু আমাকে এত সাহায্য করলেন… কিন্তু কেন?”
বৃদ্ধ এক মায়াবী হাসি দিয়ে বললেন, “বাবা, যার কিছু নেই, সে জানে ‘না থাকার’ কষ্ট কেমন। তাই আমি চাই, অন্য কেউ সেই কষ্ট না পাক।”‘
গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় রাহুলের চোখে জল চলে এল। সেদিন সে বুঝতে পারল—ধনী হলেই উদার হওয়া যায় না, বরং যাদের কম আছে, তারাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় হৃদয়ের মানুষ হয়।
