Sunday, April 21, 2024
Homeছোট গল্পসূর্যের নির্যাস - বিজয়া দেব

সূর্যের নির্যাস – বিজয়া দেব

ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকে ভোরবেলা। পীতাম্বর চাদর মুড়ি দিয়ে হাঁটছে এই ঘন কুয়াশার ভেতর। ছাদটা তেমন কিছু বড় নয়। যেমন পুরনো তেমনই ছ্যাঁতাপড়া। অনেকদিন বৃষ্টি নেই, শ্যাওলা শুকিয়ে কালো কালো ছোপ ফেলেছে। অনেকটা যেন আলপনার মত, সিমেন্ট রঙের মাঝে কালো আলপনা। তবে বর্ষায় বড় সমস্যা, ছাদে এলে পা হড়কে যায়। অনেক পুরনো ফ্ল্যাটবাড়ি। সবাই থাকে না। দুটো ফ্ল্যাট তো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। একটিতে থাকত অর্ঘ্য ও প্রমিতা। তাঁদের একটি ছেলে অন্বয়। সেই এক গল্প, পড়াশোনা করে অন্বয় চলে গেল আমেরিকা, বাবা মা একা। অর্ঘ্যের আচমকা স্ট্রোক হলো, কিছুদিন বিছানায়, তারপর কখন যেন ওপারে চলে যাবার ডাক এলো। প্রমিতা পড়ে গেল একা। প্রমিতার কথা মনে করতে চায় না বিপত্নীক পীতাম্বর।

অন্তত আধঘন্টা হেঁটে নীচে নামল পীতাম্বর। ঘরের ভেতরটা আরও ঠান্ডা। আবছায়া শীতলতায় মোড়া দুটো বেডরুমের একটি প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে আছে। ঐ ঘরে ঢুকতে ইচ্ছে হয় না অনেকদিন। মনে হয় একটা মানুষ যেন ভেতরে চলে ফিরে বেড়ায়। না না, মোটেই সে অশরীরী নয়। সে আছে, সে বুঝাতে চায় মানুষ মরেও মরে যেতে চায় না, এই গোলকের বড় বেশি টান। ঐ ঘরেই তো মাঝেমাঝে ঘুমাতো পীতাম্বর প্রমিতাকে নিয়ে, কিন্তু এতটুকু শান্তি সে পায়নি এবং দিতে পারেনি প্রমিতাকে। মানুষ কি আসলে একজনকেই ভালবাসতে পারে? এরপর তার মনটা ভেতর থেকে মরে যায়?

ক্যাঁচ করে কিচেনে শব্দ হল। উঠে কিচেনে গিয়ে কিছুক্ষণ স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল পীতাম্বর। গতকাল রাতের এঁটো বাসন সব সিঙ্কে উপছে পড়ছে। শুধু কি রাতের? দিনের বেলায় মানে শেষ বিকেলে যা খেয়েছিল সেই বাসনকোসনও রয়ে গেছে। একটা বেড়াল ইতিউতি গন্ধ শুঁকছে। বেঘোরে ঠান্ডা পড়েছে। এঁটো বাসনকোসনের দিকে সে খানিক তাকিয়ে থাকে বিস্ফারিত চোখে। জল এখন ভয়ংকর ঠান্ডা। অথচ চা খেতে হলে চায়ের জল ফুটানোর প্যানটা আপাতত সাফ করতেই হবে। এই আধঘন্টা জুড়ে ছাদে চক্কর লাগানোয় গলা শুকিয়েছে মন্দ না। চোখে পড়ল বিস্কুটের কৌটোয় বিস্কুট নেই। তলানিতে কিছু ভাঙা আর গুঁড়ো বিস্কুট পড়ে আছে। এই জমে যাওয়া ঠান্ডায় নীচের দোকান খুলেছে কিনা কে জানে! চায়ের সঙ্গে দুটো বিস্কুট না হলে হয়!

দোকান খুলেছে। সুরমা একগাদা শীতবস্ত্র চাপিয়ে দোকান গোছানোতে লেগেছে। হরিধনের দোকান এটা। তার মেয়ে সুরমা। মেয়েটার ভালো ব্যবহার ভালো ব্যবসাবুদ্ধি। পীতাম্বরকে দেখে একগাল হেসে বলে — কি চাই জ্যেঠু?

— বিস্কুট দাও তো। হরিধন কি ঘুমোচ্ছে?

— আর বলো না, ঠান্ডা পড়েছে থেকে আটটার আগে বিছানা ছাড়বে না। তুমি তো জ্যেঠু এত ভোরে উঠে এই কুয়াশার ভেতর ছাদে চক্কর লাগাতে থাকো, কী বলব, একেবারে তাজ্জব।

— তুই কী করে দেখলি? নিশ্চয়ই তুইও এই ঠান্ডায় ছাদে যাস!

— পাগল? আমাকে পিসি বলেছে। বুড়ির রাতে ঘুম নেই, ভোরে ছাদে গিয়ে হাঁটে। এই করে করে কাসি লাগিয়েছে। তোমারও লাগবে দেখে নিও।

— লাগে লাগুক। তুই বিস্কুট দে তো।

— দিচ্ছি দিচ্ছি। গতকাল দেখেছি কালীমন্দিরের প্রসাদের লাইনে দাঁড়িয়ে তুমি। দুপুরে ঐ খেয়েই কাটিয়ে দিলে নাকি?

— তোর তো আমাকে নিয়ে ভারি চিন্তা। বেশ তো আয়, আমার সঙ্গে থাকবি।

— এই দ্যাখো, ভালো কথা বললে বাজে কথা বলে। বললাম তোমার ভালোর জন্যেই। এই করে করে না যেখানে সেখানে মরে ভূত হয়ে থাকবে। নাও বিস্কুট। কাজ করো, খাও। ব্যস। কেউ এসে কাজ করে দেবে এমন পাবে না। লোক রাখার টাকা তেমন নেই তো, খেটে খাও না। না কি কিপটে ভারি?

পীতাম্বরের কানে ওসব ঢোকে না।

নিজের সাত পুরনো ফ্ল্যাটবাড়ি থেকে কতদিন থেকে একটা বুকে চাপ ধরা গন্ধ উঠে আসে পীতাম্বর জানে না। বউ মরে গেছে একযুগ হয়ে গেল। তারপর অর্ঘ্য মরল, তারপর প্রমিতাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে আসত সে কোনও কোনও রাতে, এসব ব্যাপারস্যাপার ফ্ল্যাটবাড়ির বাকি সবাই জানত, কেউ কিছু বলত না। ওসব জেনেও না জানার ভান করত, দুটো একা মানুষ মাঝে মাঝে এক হলে ক্ষতিই বা কী! প্রমিতা মরল তার ফ্ল্যাটেই শেষ রাতে ঘুমের ভেতর, সে রাতটা সে ভুলতে পারে না কিছুতেই। সে টেনে টেনে প্রমিতার দেহটাকে নিয়ে গেল অর্ঘ্যের ফ্ল্যাটে, উপরের ফ্ল্যাট থেকে নয়ন সমাদ্দার চেঁচিয়ে বলেছিল-কে? কে ওখানে? ততক্ষণে পীতাম্বর ডেডবডি ঢুকিয়ে ফেলেছে অর্ঘ্যের ফ্ল্যাটে কোনওক্রমে। দুদিন অর্ঘ্যের ফ্ল্যাটে পড়েছিল প্রমিতার মৃতদেহ। পচা গন্ধে পুলিশকে ফোন করে এনে দরজা খুলে ডেডবডি বের করা হয়। দরজা তো খোলাই ছিল। টেনে দরজা দেওয়া ছিল। পুলিশ এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।তবে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু সাব্যস্ত হবার পর ব্যাপারটা তেমন এগোয় নি। নয়ন সমাদ্দার তাকে খুব দেখছিল। দুচারজন তাকে কটাক্ষ করেছিল — পীতাম্বর বাবু, আপনি জানেন না কিছু? কিম্বা — পীতাম্বরবাবু, প্রমিতার কি শরীর খারাপ ছিল?কিচ্ছু জানেন না? কিচ্ছু না? ঐটুকুই। ব্যস।

খুব টেনসনে ছিল পীতাম্বর কিছুদিন। আরে তাকে তো বাঁচতে হবে ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই। তাছাড়া ঐ প্রমিতা তো তাকে সুখ দেয়নি!

কল খুলতেই বরফঠান্ডা জল ঝরঝর করে হাতের ওপর পড়ে তাকে শীতল করে দিল একেবারে ভেতর থেকে। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। এককাপ গরম চা দু’খানা বিস্কুট হাতে নিয়ে বসে মনে হল যাক তবু কিছু একটা করা গেল। চা খেতে খেতে একটা আরাম বোধ হল অবশ্যই। যদিও এইসব আরামবোধ একেবারেই ক্ষণিকের। পীতাম্বর বিশ্বাস করত দৃশ্য জন্ম হয় এবং তা মরে যায় কিন্তু প্রমিতার এই চলে যাওয়ার পর তার নিজের কার্যকলাপ তাকে স্বস্তি দিল না মোটেই। দৃশ্য মরে যায়নি মোটেই। তার এই নিরাপদে থাকা আর নিজেকে ভালো রাখার আপ্রাণ চেষ্টার পরেও একটা ভেতর — মানুষ তাকে একধরনের আবদ্ধ কারাগারে ঢুকিয়ে দিল। এখন এখান থেকে বেরনো খুব একটা সোজা বলে মনে হচ্ছে না।প্রমিতা সংক্রান্ত একেবারে নির্ভেজাল সত্যিটা যদি কাউকে বলা যেত। কিন্তু সেটা তো কিছুতেই সম্ভব নয়।

পীতাম্বর জানে এই যে সামনের সাদা দেয়াল, তার বুকের ওপর দিয়ে থেকে থেকে চলছে যে পর্যবেক্ষণরত টিকটিকি তার গায়ে হাত ছোঁয়ালেই খসে পড়বে লেজটা। এতটাই স্পর্শকাতর তার দেহ।এমনটা করেছিল প্রমিতা। অর্ঘ্য মরে যাওয়ার পর সে তখন একা। ভর দুপুরবেলা। রাস্তাঘাট একটু শুনশান। হঠাৎ মেয়েলি কন্ঠের চিৎকারে সে দরজা খুলে বেরোল। তাদের ফ্লোরে চারটে ফ্ল্যাট। ঐ কোণের ফ্ল্যাটটা হল অর্ঘ্য প্রমিতার। সে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে দেখল দরজা খোলা। ভেতরে প্রমিতা লাফালাফি করছে আর চিলচিৎকার করছে। সামনে যাওয়ার পর প্রমিতা অঙ্গুলি নির্দেশে মেঝেতে পড়ে থাকা টিকটিকি ও তার খসে পড়া লেজ দেখাল। কী ভয়! কীসের ভয়? একটা টিকটিকি তার কি আর ক্ষতি করতে পারে! শুনেছে টিকটিকি ঐ খাবারদাবারে পড়লেই মুশকিল। ওদের পাকস্থলীর এঞ্জাইম নাকি মানুষের জন্যে বিষ। ওসবও শোনা কথা। নাহলে টিকটিকি মানুষের উপকারও করে। টপ টপ করে মশা গিলে খায়, আরও মানুষের জন্যে অবাঞ্চিত কিছু পোকামাকড়ও খায়। যাই হোক, সেই লেজ খসে পড়া টিকটিকি তার জন্যে মোটেই ভালো ছিল না। সে প্রমিতার কাঁধে হাত রেখে শান্ত করল, অভয় দিল। একটু কাছেও টানল। লেজ খসে পড়া টিকটিকির নিশ্চয়ই তখন খুব যন্ত্রণা হচ্ছিল, আর একই সঙ্গে পীতাম্বর নামের প্রাণীটার জৈব দেহটা জেগে উঠছিল। মনে হল প্রমিতারও জাগছিল। সেই শুরু। মানে এক তুচ্ছ লেজ খসা টিকটিকি ছিল তার ও প্রমিতার দেহজ সম্পর্কের অনুঘটক। নির্নিমেষ তাকিয়ে পীতাম্বর এখন এই চলমান টিকটিকির গতিবিধি দেখে।

রাতে ঠিকঠাক ঘুম হয় না। নানা শব্দ চারপাশে চলে ফিরে বেড়ায়। কুকুর ডাকে। পাশের ঘরে একটা খসখস আওয়াজ। একজন সঙ্গী দরকার। খুব দরকার। প্রমিতার মত নয়। একটা রাত ওকে নিয়ে শান্তি স্বস্তি পায়নি সে। অর্ঘ্য বোধহয় প্রমিতাকে খুব ভালবাসত। নিবিড় মুহূর্তে তাই সে অর্ঘ্যকে স্মরণ করত। অসহ্য ব্যাপার ছিল সেটা। কথা হল তাহলে প্রমিতা তার কাছে আসতো কেন? এখন ভাবে সে কেন প্রমিতাকে বলল না তুমি এখানে আর এসো না। অর্ঘ্যর স্মৃতি ধরে বেঁচে থাকো বাকিটা জীবন। এই টানাপোড়েনেই হয়তো মরে গেল দুম করে প্রমিতা।

একটুখানি বেলা হলে বেরিয়ে পড়ল পীতাম্বর। মানুষেরা সবাই কাজেকর্মে চলেছে। তার কোনও কাজ নেই। তবে কিছু টাকার দরকার। টাকা তোলা মানেই বিয়োগের গল্প। খরচ হয়ে যাওয়া মানে টাকা চলে যাওয়া। যা যায় তা যায়, আর ফিরে আসে না। কোত্থেকে আসবে? প্রাইভেট কোম্পানির টাকা, এককালীন যা পাওয়া গেল। পেন্সন নেই। চাকুরিতে অবসর নেওয়ার আগেই গত হয়েছে বউ। একা বলে কোনোক্রমে চলে।

এটিএম এ ঢুকে সে যখন টাকা তুলতে যাচ্ছে তখন একটা অদ্ভুত আওয়াজ কানে এল। এখানেই, এটিএমের ভেতরেই। পীতাম্বর টাকা তুলল তারপর একটা ঘুষঘুষে শ্বাস ফেলার শব্দ শুনে থমকে গেল সে, আর দেখতে পেল এটিএম মেশিনের ঠিক পেছনে একটা কুকুর পড়ে আছে। ধুঁকছে। খুব মন দিয়ে কুকুরটাকে দেখছে পীতাম্বর। কুকুরটা কুন্ডলী পাকিয়ে শুয়ে। মাঝেমাঝে সারা দেহ কেঁপে কেঁপে উঠছে। এই গোপন জায়গাটা বেছে নিয়েছে সে শেষ সময়ের জন্যে। একটা অবোলা প্রাণীও তার শেষ সময়ে খানিকটা আড়াল চায়।

কেউ পেছন থেকে বলল- আপনার হয়েছে?

পীতাম্বর পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখল বছর চল্লিশ/বেয়াল্লিশের এক যুবা। পীতাম্বর বলে — হ্যাঁ হয়েছে। তবে এই কুকুরটা…

— কুকুর? কোথায়?

লোকটা দেখল। তারপর বলল — উফফ! অবোলা প্রাণী। কী কষ্ট! আপনি এই দৃশ্য মনোযোগ দিয়ে দেখছেন অনেকটা সময় ধরে, তাই না?

— না মানে..

— ভয় হচ্ছে, তাই না?

পীতাম্বর আর কথা না বাড়িয়ে বেরিয়ে পড়ে। কথায় কথা বাড়বে।

রাস্তায় এবার যে ক’টা কুকুর আছে সবগুলোর দিকে নজর গেল তার। একটা তিনঠ্যাঙে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। চারটেতে মারামারি হল, তার মধ্যে তিনঠ্যাঙে জুড়ে গেল। দিব্যি কাঁই কাঁই করছে। নিজেকে এখন বেশ হালকা লাগছে পীতাম্বরের। এদের উৎফুল্ল ঝাপট কামড় কেমন যেন বসন্ত বাতাসের মত তাকে ভেতর থেকে উজ্জীবিত করল। তবে তার মনে হল এভাবে রাস্তায় থাকতে পারলে বেশ হত। মৃদুমন্দ হাওয়া বইছে। কোথা থেকে ফুলের সুগন্ধও ভেসে আসছে যেন। আদিম মানুষেরা খোলা জায়গায় থাকত, তারা খুব মুক্ত ছিল। এই ঘরবাড়ি আরামপ্রদ জীবন মানুষকে নিরাপত্তা দিয়েছে যেমন বন্দীও করেছে তেমনই। এই তিনঠ্যাঙে কুকুরটা বেশ স্বাধীনতার সুখ অনুভব করছে। পীতাম্বরের আজকাল আর ঐ ফ্ল্যাটে ফিরে যেতে ইচ্ছে হয় না। তার চাইতে এই খোলা প্রকৃতি জীবন্ত অনেক। ওখানে কেমন একটা মৃত্যুগন্ধী অলৌকিক হাওয়া ভেসে বেড়ায়।

হনহন করে হাঁটছে পীতাম্বর। যেন কত দরকারি কাজ আছে তার। সেটাকে পূর্ণ করতে হবে। সে কি কোথাও চলে যাবে? সে কি আর ফিরবে না? সে তো কিছুই ফেলে যাচ্ছে না কোথাও, তার জন্যে কেউ অপেক্ষায়ও নেই। পুরোনো একটি ফ্ল্যাটবাড়ি যেখানে আজ শুধু বেড়ালেরা আর টিকটিকিরা স্বাধীনভাবে চলাচল করে।

এই মুহূর্তে সে এক মুক্ত মানুষ। সে হাঁটছে। তার মাথার ওপর মেঘলাটে শীতের আকাশ, নিরাভরণ রাজপথ আর সম্মিলিত সারমেয়ের ডাক। কেউ তাকে ডাকছে না, পেছন ফিরে তাকাতে বলছে না। একটা ভুলভাল জীবন কাটিয়ে সে এখন চলেছে এক মুক্ত জীবনের দিকে। কিন্তু কোথায়? কতখানি পথ সে চলতে পারে? এই যে অর্ঘ্য তার খুব কাছের মানুষ ছিল, সুখদুখমাখা কথাগুলো নিয়ত বলত তাকে, ছেলে অন্বয় বেশি খোঁজখবরে নেই তাদের জন্যে এসবও বলতো সেই অর্ঘ্য হঠাৎ করে চলে গেল প্রায় কিছু জানান না দিয়েই। পীতাম্বর একা খানিকটা কেঁদেছিল, প্রমিতার জন্যে তার কোনও আলাদা টান ছিল না। কিন্তু একটা টিকটিকির খসে পড়া লেজ তাদের শারীরিকভাবে কাছাকাছি নিয়ে এল। আবার প্রমিতাও নাকি অর্ঘ্যকে ভালবাসত, তারপরও তার কাছে চলে আসত। প্রমিতা মরে গেলে পীতাম্বর নিজের নিরাপত্তাকেই বড় করে দেখল। না, এসবের কোনও উত্তর নেই। উত্তর দেওয়ার জন্যে এই গোলক তৈরি হয়নি মোটেই।

আর এগোল না পীতাম্বর। সে ফিরল। ঘরে ঢুকে সে একগ্লাস জল খাবার জন্যে তার লম্বা কাচের গ্লাসটা হাতে তুলে নিতে গিয়ে হাত ফস্কে মেঝেতে পড়ে গ্লাসটা চুরমার হল।

এখন পীতাম্বর কাচের টুকরোগুলো জড়ো করছে আর একা একা বিড়বিড় করছে -এই ভাঙ্গা কাচের টুকরো থেকে নতুন ফুলদানি তৈরি হতে পারে আবার তা ডাস্টবিনে চলে যেতে পারে চিরতরে। সবই সম্ভাবনার অধীন।

কোথা থেকে একটুকরো সূর্যালোক এসে পড়েছে কাচের টুকরোগুলোতে। হিরের মত ঝলসাচ্ছে। সূর্যালোক না বলে একে সূর্যের নির্যাস বললেই বুঝি ভালো হয়। দু’হাতে পীতাম্বর এই নির্যাসটুকু, এই ওমটুকু নেয়ার জন্যে আকুল হয়ে পড়ে।

এই আলো এই ওমটুকু নিজের ভেতর নেওয়া ছাড়া কার কাছে কী দেবার কিম্বা পাবার আছে তার!

Inspire Literature
Inspire Literaturehttps://www.inspireliterature.com
Read your favourite inspire literature free forever on our blogging platform.
RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments